শুক্রবার, ০২ অক্টোবার ২০২০ ,

প্রকাশ :২৪ জুন ২০২০ , ১১:০৮ PM

কাজ করে যাচ্ছে সমবায় এবং সমবায় অধিদপ্তর

single image

বৃটিশরা ১৯০৪ সালে এদেশে সমবায়ের আনুষ্ঠানিক প্রচলন করেন। আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় খুলনা জেলার পাইকগাছা উপ‌জেলার রাড়ুলী এলাকার কৃ‌ষি ও কৃষ‌কের ভা‌গ্যোন্নয়‌নে নিজ গ্রামে নিজেদের জ‌মিদার বাড়ীর একাংশ ব্যবহার করে ১৯০৮ সালে রাড়ুলী সেন্ট্রাল কোঅপা‌রে‌টিভ ব্যাংক প্র‌তি‌ষ্ঠিত করেন এবং কলকাতা সমবায় অ‌ফিস থে‌কে‌ে ১৯০৯ সা‌লে নিবন্ধন লাভ ক‌রেন, যা ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় এবং অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্র‌তি‌ষ্ঠিত কো‌নো সমবায় ব্যাংক। ‌সেই ব্যাংকের কার্যক্রম এখ‌নও চলমান রয়েছে । ১৯১৪ সালে বগুড়ায় বগুড়া সেন্ট্রাল কো-অপরারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। এদেশের কৃষকদেরকে মহাজনদের হাত থেকে রক্ষা করা এবং দুঃসময়ে স্বল্পসুদে পুঁজি সরবরাহের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নের জন্য মূলত সমবায়ের এবং সমবায় ব্যাংকের প্রচলন করা হয়। ১৯১৭ সালে নওগাঁয় প্রতিষ্ঠিত হয় গাঁজা কো-অপারেটিভ সোসাইটি যা একসময় এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম সমবায় সমিতি ছিল। 

২। আজ দেশে ২৯ প্রকারের প্রায় পৌনে দুই লক্ষ সমবায় সমিতি আছে। তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমিতি হচ্ছে সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি। প্রায় ২৪০০০ সমবায় সমিতি আছে এধরনের। এই সমিতিগুলো নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষদের নিয়ে গঠিত। এই সমিতিগুলো তার সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ ঢাকা ক্রেডিট এর নাম করা যায়। অল্পকিছু খিস্টান ধর্মালবম্বী ব্যক্তি দ্বারা মাত্র কয়েকশত টাকা পুঁজি নিয়ে ১৯৫৫ সালে যাত্রা করা এই সমিতির সদস্য সংখ্যা এখন ৪২০০০ এর অধিক এবং মূলধনের পরিমাণ ৭০০/৮০০ কোটি টাকা। তারা নানা রকম কল্যাণমূলক ব্যবস্থার প্রচলন করেছেন। তারা এখন নির্মাণ করছে একটি হাসপাতাল যেখানে ব্যয় হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। তাদের ৫০০ জনের অধিক কর্মচারী আছেন। এমন উদাহরণ আরও অনেক আছে।

৩। দেশের কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন সমূহের জাতীয় সমবায় প্রতিষ্ঠান দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লি: (কালব-- (CCULB) । এটি হচ্ছে ঋণদান সমবায় সমিতিগুলোর অ্যাপেক্স বডি। চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব জোনাস ঢাকি এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব আলফ্রেড রায়। কালব এর সদস্য সমবায় সমিতির সংখ্যা ১০৪৮ টি যাদের সমন্বিত মূলধন ৩৭০০ কোটি টাকা এবং কালবের নিজস্ব মূলধনের পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। তাদের লোকবল ৮২৭ জন । প্রতিমাসে প্রায় দেড় কোটি ব্যয় হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রদানে। এই করোনা ভাইরাসের সময়েও কালব (CCULB) তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা দিয়ে আসছে যেখানে বড় বড় অনেক ফ্যাক্টরী এবং বেসরকারী কোম্পানীগুলোর একটা বড় অংশ তা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টে লক্ষ করা যায়। সমবায় সমিতিগুলো এই করেনাকালে কোটি কোটি টাকার ত্রাণসহায়তা প্রদান করেছে এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। সমবায় যে একটি টেকসই উন্নয়ন মডেল, এটা এই করোনা মহামারীকালেও নতুন করে প্রমাণিত হচ্ছে।

৪। কালব (CCULB) তাদের সদস্য সমবায় সমিতিসমুহের গত অর্থবছরের ( ২০১৮-১৯) নীট লাভের একটি অংশ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা নীট লাভের ৩ % যা সমবায়ীদের উন্নয়নে ব্যয় করা হয় যাকে সমবায়ের পরিভাষায় সিডিএফ(কো-অপারেটিভ ডেভোলপ ফান্ড) বলা হয়ে থাকে তা আজ ২৪.৬.২০২০ তারিখ প্রদান করেছে। কালব এর সভাপতি, সেক্রেটারী এবং ম্যানেজার আমার অফিসে এসে ১৪ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকার চেক আমার হাতে তুলে দেন । করোনার ভাইরাসের ভয়কে উপেক্ষা করে আমি তা কাছ থেকেই গ্রহণ করেছি। সামনে ডিসেম্বর নাগাদ একই বছরের আরও বড় অংকের ( ৩০/৪০ লক্ষ টাকার) চেক হস্তান্তর করতে পারবেন তারা বলে প্রত্যাশা করা যায়।

৫। কালব (CCULB) ভালো চলছিল। কিন্তু মাঝখানে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাক্তন সভাপতি এবং তার কিছু সহযোগী মিলে টাকা আত্মসাত করেছেন। সেই টাকা উদ্ধারে কালব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু আত্মসাতকারীরা আদালতের আশ্রয় নিয়ে সেই প্রচেষ্টাকে থামিয়ে রেখেছে। আমরা এই কাজে কালব-কে সকল প্রকারের সহায়তা দিয়ে আসছি যদিও ভেতর বাহিরের একটা অদৃশ্য সিন্ডিকেট নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। নেতৃত্বের ক্রোন্দলও ক্ষতি করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। সমবায় সমিতি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নিজেদের প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হয় বলে সেখানে হস্তক্ষেপ করার আইনগত অবকাশ নেই বললেই চলে। কিন্তু শেষ অবধি আমরাই জিতবো বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

৬। আজ এই করোনা মহামারীর মধ্যেই আমরা কালবের বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করেছি। কালবের সভাপতি, সেক্রেটারী, ম্যানেজার উপস্থি ছিলেন । উপস্থিত ছিলেন আমার সহকর্মী অতিরিক্ত নিবন্ধক জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত নিবন্ধক জনাব অঞ্জনকুমার সরকার, যুগ্ম-নিবন্ধক ( চ: দা:) জনাব মোঃ জিল্লুর রহমান, যুগ্ম-নিবন্ধক( চঃ দা:) কাজী মেসবাহ, উপ-নিবন্ধক জনাব মোঃ কামরুজ্জামান, উপ-নিবন্ধক জনাব আবুল খায়ের এবং সংশিষ্ট আরও কয়েকজন।

৭। দেশের এই ক্রান্তিকালীন সময়ে তারা তাদের সদস্য সমিতির সিডিএফের এই অর্থ আদায় করে সমবায় অধিদপ্তরে প্রদান করে সমবায়কে গতিশীল রাখতে ভুমিকা পালন করে চলেছে। করোনা ভাইরাসের ভয়ংকর থাবায় কালব-ভুক্ত সমবায় সমিতিগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে তারপর ও সমবায় অধিদপ্তরের আমার সহকর্মীদের উপস্হিতিতে এ টাকার চেক হস্তান্তর করেন যা নিঃসন্দেহ প্রসংশনীয় । কালব ভুক্ত সমবায় সমিতিগুলো বর্তমান সমস্যা কাটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আবার আগের মত ভুমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

৮। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আশির দশকে নেপালের টীম এসে আমাদের কাছ থেকে সমবায় ব্যাংকিং এবং সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি বিষয়ে প্র্যাক্টিক্যাল ধারণা নিয়ে যায়। আজ তারা এই ক্ষেত্রে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। এখন তাদের সাফল্য দেখেতে অমাদের দেশের সমবায়ীরা নেপালে যান। হায় দুর্ভাগ্য!

কিন্তু আমরা বসে নেই। সমবায় অধিদপ্তর নতুন উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে। জহুরী জহুর চেনে। জাতীয় কবি সমবায়কে “ দুঃখজয়ের নবীন মন্ত্র ‘’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সমবায় একটি পরীক্ষিত টেকসই উন্নয়ন মডেল । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যথাযথভাবেই বিষয়টি বুঝতে পেরে সমবায়ের মাধ্যমে এদেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথটি বেছে নিয়েছিলেন। এটা ছিল অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান ও দূরদৃষ্টির পরিচায়ক। এক্ষেত্রে অগ্রগতিও অনেক হয়েছে কিন্তু সমবায় বিভাগ সেসব সাফল্য জাতির কাছে সেভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি। আমরা এখন সমবায়কে আরও গতিশীল করতে এবং সমবায়ের প্রকৃত ভূুমিকা ও সাফল্য সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে তুলে ধরতে চাই। নিশ্চয়ই সফল হবো আমরা।

এই বিভাগের আরো খবর ::

Image

নামাজের সময়সূচী

সূর্যোদয় ভোর ৫ : ৪০ টা
ফজর ভোর ৬ : ০০ টা
যোহর দুপুর ১: ০০ টা
আছর বিকাল ৪ : ৩০ টা
মাগরিব সন্ধা ৬ : ৩০ টা
এশা রাত ৮ : ১৫ টা
সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬ : ০০

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সিটি নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।’ আপনি কি তা-ই মনে করেন?