সোমবার, ২৬ অক্টোবার ২০২০ ,

প্রকাশ :০১ অক্টোবার ২০২০ , ০২:০৩ PM

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য- ডাকঘর ও ডাকবাকসো

single image

বিদেশ গিয়া বন্ধু তুমি আমায় ভুইলোনা, চিঠি দিও পত্র দিও জানাইও ঠিকানারে,জানাইও...।

‘নাই টেলিফোন নাইরে পিয়ন, নাইরে টেলিগ্রাম বন্ধুর কাছে মনের খবর কেমনে পৌছাইতাম....। 

ঠিকানা,কিংবা চিঠি দিও প্রতিদিন চিঠি দিও,নইলে থাকতে পারবোনা….।’ 

এক সময় প্রায়ই রেডিও টিভিতে শোনা যেতো এ রকম কতনা কালজ্বয়ী গান। দিন বদলের পালায় এরকম মনোমুগ্ধকর হৃদয়স্পর্শী পুরোনো দিনের গানগুলো আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে বহু আগেই। সেই সাথে কালের বির্বতনে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকযোগে চিঠি পত্রের ব্যাবহার।

এক সময় দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোত জড়িত ছিল-পোস্ট অফিস ও ডাকবাকসো তথা ডাক বিভাগ। সাধারণ থেকে অতিগুরুত্বপূর্ণ সকল প্রয়োজনে ব্যবহৃর হতো এ ডাকবাকসো গুলো। কিন্তু বর্তমানে এর-প্রয়োজন এক প্রকার ফুরিয়ে গেছে।

আজ থেকে প্রায় দশ বারো বছর আগেও মানুষের সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিলো ডাকবিভাগ। পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন অথবা অতি আপনজন দুর-দুরান্ত থেকে ডাকযোগে চিঠিপত্র বা টেলিগ্রাম ও ফ্যাক্সের মাধ্যমে আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ এবং খোঁজ খবর নিতো। এ সব ডাকবাকসে পরিবারের যে কোন চিঠিপত্র ফেলে আসতে ঘরের অপেক্ষাকৃত কিশোর সদস্যদের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হত।  

আর্থিক লেনদেনও করা হতো ডাকযোগে মানি অর্ডারের মাধ্যমে। বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী,পুত্র কিংবা প্রিয় মানুষটি প্রিয়তমার চিঠির অপেক্ষায় থাকতো। প্রিয় মানূষটি অথবা অতি আপন জনের সেই চিঠি হাতে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হতো অপেক্ষকৃত ব্যক্তিটি। তখনকার দিনে সেই আনন্দ অনুভূতিই ছিলো অন্যরকম। কিন্তু কালের বির্বতনে এখন আর শহর কিংবা গ্রামগঞ্জে ডাকযোগে চিঠিপত্রের তেমন ব্যাবহার নেই।

অত্যাধুনিক পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ও এগিয়ে চলছে । অনেক উন্নত পরিসরে চলছে মানুষের সামাজিক যোগাযোগ ব্যাবস্থা। এখন মানুষ ডাকযোগে যোগযোগের মাধ্যম পরিহার করে মোবাইল , ইন্টারনেট, ফেসবুকিং, ই-মেইল, কিংবা কুরিয়ার ইত্যাদি সার্ভিসের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনসহ নিত্য প্রয়োজণীয় যোগাযোগ করে থাকেন। আর এসবের ব্যাবহারও চলছে জোরালো গতিতে। তাই মানুষজন এখন ভুলে গেছেন সেই পুরোনো আমলের ডাকযোগে চিঠি পত্রের কথা।

অল্প ব্যবধানে তথ্য প্রযুক্তির নতুন সব মাধ্যমের কারণে এক প্রকার অচল হয়ে পরে আছে ডাক বিভাগের এ সব ডাকবাকসো। ব্যবহার না হওয়ার কারনে এগুলোর বর্তমান অবস্থা বেহাল। ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় এ সব ডাকবাকসো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর সামনে এখনও দাঁড়িয়ে আছে অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় হয়ে। ডাকঘরের ও একই অবস্থা, ডাকডাকঘর ও ডাকবাকসো গুলো নিয়মিত খোলা বা দেখাশুনা করা হয় না। 

নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা হয়ে যাচ্ছে ডাকঘর বা পোস্ট অফিস। অব্যবহৃত হয়ে নষ্ট হয়ে বিলুপ্তির পথে ডাক বাকসো বা পোস্ট বক্স। 

এখনো গ্রাম গঞ্জের কোথাও কোথাও ডাকঘর ও ডাকবাকসো তার অস্তিত্বের জানান দিলেও তাতে নেই কোনো চিঠির লেনদেন। পোস্ট অফিস থাকলেও নেই কোন কার্যক্রম। সেই পোষ্ট অফিসে চিঠিপত্র জমা রাখার বাকসো থাকলেও তাতে নেই কোনো চিঠি।

লেখক: আনোয়ার কাজল , গণমাধ্যমকর্মী। 

এই বিভাগের আরো খবর ::

Image

নামাজের সময়সূচী

সূর্যোদয় ভোর ৫ : ৪০ টা
ফজর ভোর ৬ : ০০ টা
যোহর দুপুর ১: ০০ টা
আছর বিকাল ৪ : ৩০ টা
মাগরিব সন্ধা ৬ : ৩০ টা
এশা রাত ৮ : ১৫ টা
সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬ : ০০

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সিটি নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।’ আপনি কি তা-ই মনে করেন?