শনিবার, ২৪ অক্টোবার ২০২০ ,

প্রকাশ :০২ অক্টোবার ২০২০ , ১১:৫৪ PM

বিএনপি ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেও সেসময়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারেনি : তথ্যমন্ত্রী

single image

ছবি: সময়ের বাংলা

বিএনপি ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেও সেসময়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারেনি, বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি শিরিষ তলায় সামাজিক সংগঠন ‘তিলোত্তমা চট্টগ্রাম’ আয়োজিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে 'রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠিক মতো হচ্ছে না' -বিএনপি'র এমন অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, '১৯৯১ ও ’৯২ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা এসেছিল তাদের বেশিরভাগই রয়ে গেছে, ফেরত যায়নি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে বলবো ১৯৯১ সালের পর বিএনপি দু’দফায় ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল, তাদের সময়ে যে রোহিঙ্গারা এসেছিল তাদেরকে তারা ফেরত পাঠাতে পারেননি।'

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন, ফলে সেখানে চলমান বর্বরতার হাত থেকে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা রক্ষা পেয়েছে এবং এতে সমগ্র পৃথিবী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যম প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অভ হিউম্যানিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সমগ্র পৃথিবী যেখানে প্রশংসা করছে সেখানে বিএনপি তার প্রশংসা করতে পারেনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই ওআইসি’র পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে মায়ানমারের বিচার হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের সরকার কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে নয়, কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপের মাধ্যমে, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে চায়, আমরা সেই পথেই হাঁটছি।

এতে ইতিমধ্যে অনেক সফলতা এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আদালত থেকে মায়ানমারকে সমন দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে যাবার জন্য বলা হয়েছে। অনেককে বিচারের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মায়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে তিরস্কারের মতোই করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশেরই কূটনৈতিক তৎপরতার সফলতা।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৮১ সাথে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে আসার পর ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি বৃক্ষরোপনকে আন্দোলনে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে কৃষক লীগের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছিলেন। ’৯৬ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবার পর বৃক্ষরোপনকে পরিপূর্ণভাবে একটি আন্দোলনে রূপান্তর করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। এই আন্দোলনের পেছনে তিলোত্তমা চট্টগ্রামের মতো সামাজিক সংগঠনগুলোর বিরাট অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ হচ্ছে ভূ-ভাগের ২২.৪%, বনভূমির পরিমাণ ১৩.৭%। এই ছোট্ট দেশে বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ ভারতের চেয়েও বেশি। তবে আমাদের দেশ আরো সুন্দর ও পুষ্পপল্লবে সুশোভিত হতে পারতো যদি আমরা আরেকটু সচেতন হতাম। বৃক্ষরোপনের ক্ষেত্রে আমরা যদি আরেকটু যত্নবান হই তাহলে আমরা দেশকে আরো সুন্দর করতে পারি। চট্টগ্রামের প্রকৃতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, যেদিকে চট্টগ্রাম শহর বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে, এটি বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে কর্ণফুলি নদীর দু’পাড়ে অনেকক্ষেত্রে দখল ও দূষণ করা হচ্ছে। এগুলোর ব্যাপারে যদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠে এটি করা সম্ভবপর হবে না।

তিলোত্তমা চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাহেলা আবেদীন রীমা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, সিএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক, সাংবাদিক ওসমান গণি মনসুর, সিপিডিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার সোহাগ, চট্টগ্রামের প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, এলভিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান রইস উদ্দিন সৈকত, শিল্পপতি এসএম আবু তৈয়ব, লায়ন শামসুদ্দিন সিদ্দিকী প্রমুখ

এই বিভাগের আরো খবর ::

Image

নামাজের সময়সূচী

সূর্যোদয় ভোর ৫ : ৪০ টা
ফজর ভোর ৬ : ০০ টা
যোহর দুপুর ১: ০০ টা
আছর বিকাল ৪ : ৩০ টা
মাগরিব সন্ধা ৬ : ৩০ টা
এশা রাত ৮ : ১৫ টা
সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬ : ০০

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সিটি নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।’ আপনি কি তা-ই মনে করেন?