শুক্রবার, ০২ অক্টোবার ২০২০ ,

  • হোম / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

প্রকাশ :০১ ডিসেম্বার ২০১৯ , ০৫:৪৫ PM

প্রযুক্তির অপব্যবহার: বিপর্যয়ে বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতা

single image

শুন্য থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যাকে ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগের প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণের কৌশলকেই আভিধানিক অর্থে ডিজিটাল প্রযুক্তি বলে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।এমনকি বাংলাদেশেও। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সব কাজ (যোগাযোগের) সহজেই করা যায়-শুরুতে এমনটিই বলা ও ভাবা হয়েছিল। ডিজিটাল প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমকে (কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক, বিভিন্ন অ্যাপলিকেশন সফটওয়্যার, বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও অ্যাপস, ইত্যাদি) আমরা দ্রুত যোগাযোগের অন্যতম বাহন হিসেবে গণ্য করতে পারি। মোট কথা, তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক কাজ করা যায়। এজন্যই ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির প্রতি মানুষের এত মনযোগ বা আকর্ষণ।

দেশে অব্যাহত ভাবে চলছে নির্বিচারে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষত মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক ও হিন্দি চ্যানেলের অপব্যবহার। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর অন্যান্য মাধ্যমের ভয়ানক আগ্রাসন তো আছেই! দেশের বিরাট এক জনগোষ্ঠী ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির আসক্তির মধ্যে রয়েছে। ফলে দেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতা এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন (এসব ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ মাত্রায় নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে)। আর এর মূল ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশু, কিশোর, যুবকসহ প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

অন্যদিকে বিশ্বায়নের প্রভাবে এখন বাজার হচ্ছে ধর্ম (রূপক অর্থে), বাজার স্বর্গ (রূপক অর্থে) বাজারই পরমন্তপঃ হে। সেই বাজারের নিয়ন্ত্রকেরা স্বল্প সময়ে মুনাফা অর্জনের প্রতিযোগিতায় আমাদের মত নিম্ন-মধ্যম আয়ের (হতে চলা) দেশকে ‘টার্গেট মার্কেট’ ধরে তাদের প্রযুক্তির পণ্য-সেবা সমূহের আগ্রাসী বিপণন কার্যাক্রম চালাচ্ছে আমাদের এখানে। 

এখন কেনই বা আজ আমদের দেশের মানুষেরা কাজ-কর্ম ছেড়ে দিয়ে (সবাই না তবে অনেকেই) মোবাইল ফোন, ফেসবুক, ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন অ্যাপস ও প্রোগ্রামে ব্যস্ত হয়ে পরেছে তার কার্যকর কারণগুলোর দিকে নজর দিব আমরা। 

সাধারণভাবে অবসর সময় কাটানোর জন্য মানুষ বিভিন্ন প্রোগ্রামমুখী হয়। অনেকে আবার জীবনের অস্তিত্ববাদী সংকটের কারণেও প্রোগ্রামমুখী হয়। আমাদের সমাজের মানুষের ভয়ানক ডিজিটাল প্রোগ্রাম আসক্তির অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম হলো-হৃদয় মাঝে অতিমাত্রায় অমানবিকতার উপস্থিতি, অসামজিকতা, মানসিক বৈকল্য, বেকারত্ব, কু-সামাজিকীকরণ, এটাকে ফ্যাশন হিসেবে নেওয়া, সুষ্ঠু বিনোদনের অভাব, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, সামাজিকীকরণের মাধ্যমসমূহ প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া, সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব, মাঠ-পার্কের অভাব হেতু খেলাধুলার প্রতি অনীহা, সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় তদারকির অভাব, যৌথ পরিবারের বিলুপ্তি, জীবনে প্রকৃত ধর্ম চর্চার অভাব ও উক্ত শিক্ষা বাস্তবায়নের অভাব, নিঃসঙ্গতা, বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন, আদব শিক্ষার অভাব, মূল্যবোধের অবক্ষয়, বিচারহীনতা ইত্যাদি। মোট কথা সুষ্ঠু সামাজিক বিকাশের জন্য আদর্শমান কৃষ্টি-কালচারের অনুপস্থিতি (সর্বপর্যায়ে)। ফলতঃ বিজাতীয় কৃষ্টি-কালচার, পর্নগ্রাফি, ডিজিটাল প্রযুক্তির নানান রকমের খারাপ প্রোগ্রাম মানুষের মনোজগতকে গ্রাস করার প্রয়াস পাচ্ছে। সঙ্গগত কারণেই এগুলোর প্রচার ও প্রসারে সেন্সর করা উচিত। 

ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারে আজকাল পরকীয়া, পড়ালেখায় অমনোযোগীতা, অসহিষ্ণুতাসহ , অসমপ্রেমের জোয়ারে ভেসেছে সমাজ। যা সকল প্রকার সহিংসতার অন্যতম কারণ। সর্বত্র এখন চলছে পরকীয়া প্রেম সহিংসতা, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক ডিজিটাল দুর্নীতিই মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে। আর সমাজে এ ধারার অপ্রতিরোধ্য উত্থানের ফলে-পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রে সর্বত্র বাজছে ভাঙ্গনের সুর। যা প্রকারান্তরে সহিংসতা, ভংগুর পরিবারে রূপ নিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সমাজে কদর বাড়ছে পাপারাজিদের, বিকলাঙ্গবাদীদের। শিথিল হচ্ছে সামাজিক বন্ধন। মানুষের মাঝে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটে সভ্যতাই আজ হুমকির মুখে পড়েছে। তবে এর প্রধান শিকার হচ্ছে প্রায় পুরো মানব সমাজ। দিন দিন যেন সবাই আরও নতুন উদ্যোমে ধরা দিচ্ছে-পরকীয়া, সাইবার অপরাধের মায়াজালে। এখন শহুরে-গ্রাম্য বধূর পরকীয়া প্রেম, বিয়ে ও সাইবার অপরাধের ঘটনায় আইনি লড়াই হচ্ছে সর্বত্র। এক জনের বধূ বা স্বামী র্দীর্ঘদিন ঘর সংসার করার পর স্বামী বা স্ত্রীকে ছেড়ে প্রেমিক বা অবৈধ প্রেয়সীকে বিয়ের ঘটনায় বাংলার প্রায় এলাকাতেই আজ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়ে অরাজকতায় রূপ নিচ্ছে। এই চাঞ্চল্য, অরাজকতা আজ দেখা দিয়েছে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে। এ ধারায় আর ভাটা পড়বে বলে মনে হয় না। সবদিক বিবেচনা করে বলা যায় যে, সমাজ পরিবার এখন তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক অপরাধ , পরকীয়া, অসম প্রেমের দিকে ঝুঁকছে বেশ জোরে শোরেই। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদেরকে সচেতন হয়ে সঙ্গী বা সঙ্গীনি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৃষ্টির প্রসারতা বাড়াতে হবে। যাতে করে সঠিক লোক নির্বাচনে কোন ভুল না হয়। আর এ সবের সঠিক ব্যবহারের উপর নজর দিতে হবে, সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে। 

লেখাপড়া করার কোনো বিকল্প নেই। অথচ লেখা ড়ার সোনালি সময় হেলায় পার করে দিচ্ছে সন্তানরা। টিভি নয়, কম্পিউটার নয়, ইন্টারনেট নয়, ফেসবুক নয়, মোবাইল নয়, ব্যস্ততার ভ্যানিটি নয়; বরং আপনার সন্তানটিকে পড়ার অভ্যাস গড়তে সাহায্য করুন। রাজনীতিবীদসহ বিনিয়োগকারীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি-দেশ গড়তে হলে আগে ভালো মানের স্কুল গড়ে তুলুন (ভাল মানুষ গড়ার উদ্দেশ্যে)। আমি বলি, যে দুঃখ-দৈন্যের বাংলাদেশে আজ আমরা বাস করছি, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা (নৈতিকতা সম্পন্ন), সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক চর্চা, সামাজিক ন্যায় বিচার আমাদের সেই দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটাতে পারে। কারণ অজ্ঞতা থাকা আর অন্ধকারেরর মাঝে থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। অতএব, এখনই সময়-জেগে উঠার- “ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে”।

এই বিভাগের আরো খবর ::

Image

নামাজের সময়সূচী

সূর্যোদয় ভোর ৫ : ৪০ টা
ফজর ভোর ৬ : ০০ টা
যোহর দুপুর ১: ০০ টা
আছর বিকাল ৪ : ৩০ টা
মাগরিব সন্ধা ৬ : ৩০ টা
এশা রাত ৮ : ১৫ টা
সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬ : ০০

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সিটি নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।’ আপনি কি তা-ই মনে করেন?