মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বার ২০২০ ,

প্রকাশ :৩১ জানুয়ারী ২০২০ , ০৫:১৩ PM

একজন আলোকিত হাজী ওয়াজিউল্যা ভূৃঁইয়ার কথা

single image

ছবি: হাজী ওয়াজিউল্যা ভূঁইয়া

সৎ, নির্লোভ বহুমাত্রিক কৃতিত্বের অধিকারী একজন আলোকিত মানুষ। যিনি সারা জীবন অসহায় মানুষ ও সমাজের জন্য নীরবে-নিভৃতে কাজ করে চলেছেন। সমাজকে আলোকিত করার এক মহাকর্মযজ্ঞে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন সারাটি জীবন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এ সাদা মনের মানুষটির নাম হাজী ওয়াজিউল্যা ভূঁইয়া । সব শ্রেণির মানুষকে আপন করে নেয়ার গুণ রয়েছে তার মধ্যে। তিনি সকলের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন খোলা মনে। প্রচুর অর্থ-সম্পদ অর্জনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা অবলীলায় উপেক্ষা করেছেন। 

হাজী ওয়াজিউল্যা ভূঁইয়া জীবনের একমাত্র ব্রত দেশ, সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করা। তার চারিত্রিক দৃঢ়তা ইস্পাতসম। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী অথচ নৈতিকতায় দৃঢ়। নীতির প্রশ্নে তিনি আপোষহীন। মনুষ্যত্বই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি এক বিবেকবান মহীরূহ। 

আলোকিত সমাজ গড়ার কারিগর হিসেবে খ্যাত এই মানুষটি জন্ম গ্রহণ করেন কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতীমারা গ্রামে। শৈশব- কৈশর কেটেছে তার এই গ্রামেই। পিতা পেশায় ছিলেন সর্দার আমিন মোহাম্মদ বগু আমিন ভূঁইয়া, মাতা উলফতের নেছা ভূঁইয়া গৃহিণী ছিলেন। তিনি সারা জীবন স্বপ্ন দেখেছেন নাথের পেটুয়া অঞ্চলের মানুষের কিভাবে ভাগ্য উন্নয়ন করা যায় এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও করেছেন।

নাথের পেটুয়া অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিকি মুক্তি ও সমাজ থেকে দারিদ্রতা দূরীকরণের লক্ষে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ নাথের পেটুয়া রেলওয়ে সুপার মার্কেট’।

বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আশেপাশের ইউনিয়ন গুলোর সাথে অত্যাধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা চালু থাকার ফলে,নাথের পেটুয়া রেলওয়ে সুপার মার্কেট হয়ে গেছে সর্বকাজের কেন্দ্রস্থল। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমাসহ প্রভৃতি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের শাখা রয়েছে এখানে। এই নাথের পেটুয়া রেলওয়ে সুপার মার্কেট এখন শুধু মাত্র একটি বাজারে নাম নয়, শিক্ষা-সংস্কৃতি-অর্থনীতি-ক্রীড়া ক্ষেত্রে অগ্রসরমান এক জনপদের নাম। 

আলোকিত সমাজ গড়তে শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষা বিস্তারে এই অঞ্চলে রয়েছে তাঁর ব্যাপক অবদান।উচ্চ শিক্ষার জন্য এই অঞ্চলে কোন কলেজ ছিল না । তিনি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন নাথের পেটুয়া ডিগ্রি কলেজ। বর্তমানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই কলেজে পড়াশুনা করছে।কলেজটিতে সুদক্ষ শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সমন্বয়ে অত্র এলাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরলস শিক্ষার আলো বিতরণ করে যাচ্ছেন। এই কলেজ হতে অসংখ্য ছাত্র/ছাত্রী উল্লেখযোগ্য ফলাফল করে‘ কুমিল্লা বোর্ডে ‘বিশেষ ’স্থান দখল করে আসছে।কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ দিন পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। 

তিনি উপলব্ধি করেছেন নারী শিক্ষা ছাড়া সমাজ তথা এ অঞ্চলের মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সমাজে কুসংস্কার দূরীকরণ ও মেয়েরা যাতে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবহেলিত না থাকে,সেই লক্ষে মেয়েদের পড়াশুনার জন্য ‘হাতীমারা গার্লস স্কুল’ নামে একটি মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে একই স্কুলে যাতে ছেলেরাও পড়াশুনা করতে পারে ,এটিকে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করে শিক্ষার আলো আরো প্রসারিত করেন। নাম দেন ‘হাতীমারা উচ্চ বিদ্যালয়’। 

তার নিজ গ্রামে শতবর্ষ আগে প্রতিষ্ঠিত ‘হাতিমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ অবকাঠামো উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।তিনি দীর্ঘদিন ‘নাথের পেটুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের’ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশে উদার ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। নাথের পেটুয়ার সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী‘ নাথের পেটুয়া ফাযিল মাদ্রাসার’ সভাপতির দায়িত্ব পালন করে মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষা উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। 

হাজী ওয়াজিউল্যা ভূঁইয়া সামাজিক ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন আজীবন। তিনি ‘নাথের পেটুয়া ষ্টেশন মসজিদ,হাতীমারা পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ’ উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা করেছেন।তিনি এলাকার ‘দানবীর ’হিসেবেও পরিচিত।সাহায্য চেয়ে তার কাছ থেকে কেউ কখনো খালি হাতে ফিরে যায়নি। 

তার মেধা, শ্রম, সাধনা, ধৈর্য, দূরদর্শী মনোভাব, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার মাধ্যমে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমৃত্যু নিজেকে আর্ত- মানবতার সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। প্রধান উদ্দেশ্য, এই দরিদ্র জনপদকে শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত করা।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত নাথের পেটুয়া মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃস্টির লক্ষে এবং দারিদ্র বিমোচনের জন্য গরিব ও অসহায় মানুষদের মাঝে স্বল্প লাভে ঋণ প্রদান করেছেন। 

নাথের পেটুয়া অঞ্চলের মানুষ মনোহরগঞ্জ থানায় যেতে অনেক সময় লাগে। অনেক দূরে হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা না পাওয়ায়, থানার বিকল্প হিসেবে এই এলাকার মানুষ যাতে নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারে। তিনি ‘নাথের পেটুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র’ স্থাপিত হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

শিক্ষানুরাগী,সমাজ সেবক হাজী ওয়াজিউল্যা ভূঁইয়া বর্তমানে নাথের পেটুয়া ‘উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ’ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।নাথের পেটুয়ায় যাতে একটি উপজেলা বাস্তবায়িত হয় এবং এই এলাকার মানুষ যাতে উপজেলা শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে সে লক্ষে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন এবং এই এলাকার নারী শিক্ষা যাতে আরো বেগবান হয় সেই লক্ষে তিনি ‘উলফতের নেছা ভূঁইয়া মহিলা স্কুল এন্ড কলেজ’ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। 

দেশপ্রেমিক,মননশীল হাজী ওয়াজিউল্যা ভূঁইয়ার জীবনের অধিকাংশ সময় নাথের পেটুয়া অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ কাজ করেছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন,সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নও করেছেন । কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন ও আত্মসামাজিক উন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ে রেখেছেন যুগান্তকারী অবদান।তিনি নিজের স্বার্থের চেয়ে অন্যের কল্যাণ করতেই বেশি স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেছেন। 

তবে দু:খের বিষয় হলেও সত্য,নিঃস্বার্থ ভাবে মানুষের জন্য এতকিছু করা স্বত্ত্বেও নির্লোভ, নিরহংকারী, আলোকিত এই মানুষটিকে কোন‘সরকারী স্বীকৃতি ‘দেয়া হয়নি । নাথের পেটুয়া এলাকার গণমানুষের এখন একটাই দাবি হাজী ওয়াজিউল্যা ভূঁইয়াকে সরকার কর্তৃক ‘একুশে পদক’প্রদান করা হোক।

সময়ের বাংলা/ এসএ 

এই বিভাগের আরো খবর ::

Image

নামাজের সময়সূচী

সূর্যোদয় ভোর ৫ : ৪০ টা
ফজর ভোর ৬ : ০০ টা
যোহর দুপুর ১: ০০ টা
আছর বিকাল ৪ : ৩০ টা
মাগরিব সন্ধা ৬ : ৩০ টা
এশা রাত ৮ : ১৫ টা
সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬ : ০০

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সিটি নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।’ আপনি কি তা-ই মনে করেন?